২০২৬ সাল

সিঙ্গাপুরে ভোক্তা ব্যয় বাড়ার পূর্বাভাস

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও সিঙ্গাপুরে ভোক্তা ব্যয় শক্তিশালী থাকবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও সিঙ্গাপুরে ভোক্তা ব্যয় শক্তিশালী থাকবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উন্নত কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

সিঙ্গাপুরের ভোক্তারা চলতি বছরে প্রধানত ভ্রমণ ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেশি খরচ করেছেন। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা শক্তিশালী স্থানীয় মুদ্রা ও স্থিতিশীল শ্রমবাজারের উল্লেখ করছেন।

মে ব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ চুয়া হাক বিন বলেন, ‘২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের খুচরা ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। যদিও পূর্বাভাসকৃত এ হার সাম্প্রতিক মাসগুলোয় খুচরা ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় ধীর। তবে এটি চলতি বছরের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) তুলনায় অনেক দ্রুত হবে।’

সিঙ্গাপুরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে খুচরা বিক্রি বেড়েছিল গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর জুলাই থেকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। ওই সময় সরকারি সহায়তা সিডিসি ও এসজি৬০ ভাউচার বিতরণ শুরু হয়েছিল।

এ ভাউচারগুলো সুপারমার্কেটে কেনাকাটাকে উৎসাহিত করেছে, বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে সুপারমার্কেটে বিক্রি মাসিক ভিত্তিতে বাড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি। তবে চুয়া হাক বিনের মতে, ২০২৬ সালে এ ধরনের সহায়তা কমে যাবে। তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান শক্তিশালী থাকায় খুচরা খাতে ব্যয় বাড়বে।

চুয়া হাক বিন জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরে বেতন বাড়বে ৪ শতাংশের বেশি।

বিলাসী জিনিসপত্র ও বিনোদনমূলক সামগ্রীর ওপর ব্যয়ও সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেশ শক্তিশালী ছিল। আগামী বছরেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সিঙ্গাপুরে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৪ হাজার ৮০০, যা আগের প্রান্তিকে ১০ হাজার ৪০০ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দ্বিগুণের বেশি।

কর্মসংস্থান ছাড়াও সিঙ্গাপুরের পুঁজিবাজারের উল্লম্ফন দেশটির নাগরিকদের আত্মবিশ্বাসী করবে বলে মত অর্থনীতিবিদ চুয়া হাক বিনের। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটির শেয়ারসূচক ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শেয়ারবাজারকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার শুরু করেছে ইকুইটি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম।

মে ব্যাংকের চুয়া হাক বিন আরো বলেন, ‘নিম্ন সুদহার গৃহ ঋণ পরিশোধের খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পরিবারগুলোর কাছে খরচের জন্য বেশি অর্থ থাকবে।’

স্বাধীন অর্থনীতিবিদ সং সেং উইন বলেন, ‘২০২৫ সালে শক্তিশালী খুচরা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আসবাবপত্র এবং গৃহস্থালি সম্পর্কিত ব্যয়। এছাড়া সুপারমার্কেটে ব্যয় বেড়েছে। এর কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।’

‘শক্তিশালী সিঙ্গাপুর ডলারও বিদেশে আরো খরচ বাড়িয়েছে, হোক তা জোহর বাহরুর একটি ছোট ভ্রমণ বা থাইল্যান্ড, জাপান ও চীনের জন্য ছুটির ফ্লাইট’, এমনটাও বললেন সং সেং উইন।

আরও